May 13, 2026, 10:33 am

ঘুষ না দিলে হয়রানি: আদিতমারী ভূমি অফিসে দুর্নীতির অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন

লালমনিরহাট প্রতিনিধি :

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা ভূমি অফিস অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না- এমন অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এক ভুক্তভোগী।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আদিতমারী উপজেলার মদনপুর এলাকার বাসিন্দা বাবুল মিয়া গত ৩ মে ২০২৬ তারিখে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার গ্রামে একটি সরকারি রাস্তা উদ্ধারের বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করার পর তাকে ভূমি অফিসে ডেকে নেওয়া হয়।
সেখানে সার্ভেয়ার জাহাঙ্গীর আলম, নাজির হিলটন ও সহকারী মশিউর রহমান তার কাছে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। তারা সরাসরি জানান, টাকা ছাড়া এই অফিসে কোনো কাজ হয় না। পরে নিরুপায় হয়ে বাবুল মিয়া কষ্টে জোগাড় করা ১,৫০০ টাকা সার্ভেয়ার জাহাঙ্গীর আলমকে প্রদান করেন। কিন্তু পরবর্তীতে বাকি টাকা দিতে না পারায় তার কাজ আটকে দেওয়া হয় এবং অফিসে গেলে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়ার জাহাঙ্গীর আলম ও নাজির হিলটন।

এদিকে, সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগ- শুধু এই একটি ঘটনা নয়, পুরো উপজেলায় ভূমি অফিসগুলোতে ঘুষ বাণিজ্য ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে নামজারি বা খারিজের ক্ষেত্রে ঘুষ না দিলে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। যেমন- জমির দাগ নম্বর, হোল্ডিং নম্বর, এমনকি মালিকের পরিচয়েও ভুল দেখানো হয়। ফলে আবেদন বাতিল হয়ে যায় এবং পরে দালালের মাধ্যমে ঘুষ দিয়ে কাজ করতে বাধ্য হন ভুক্তভোগীরা।
ভূমি অফিসের ভেতরে ও বাইরে সক্রিয় রয়েছে দালালচক্র। তারা অফিসের কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশে ফাইল প্রক্রিয়াকরণ, নথি যাচাইসহ বিভিন্ন ধাপে ঘুষ লেনদেনের ব্যবস্থা করে। নামজারি, জমিভাগ, খাজনা প্রদান, পর্চা উত্তোলনসহ প্রায় সব সেবাতেই অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জি. আর. সারোয়ার কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কথা বলবেন।

আদিতমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজিজা বেগম বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা প্রশাসক ঢাকায় অবস্থান করায় ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক (উপ-সচিব) মো. রাজীব আহসান বলেন, ভূমি সেবার জন্য জনগণের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা